রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলার রায় আজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায় আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে। মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ মোট আট আসামি রয়েছেন। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তা পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বহুল আলোচিত এ মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।

মামলার আট আসামি হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব এবং রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা একটি মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। অপর দুই আসামি মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক। জামিনে থাকা অন্য আসামিদেরও আদালতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের বড় একটি অংশ ছিলেন ভবনটিতে থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক। আহত হন আরও বহু মানুষ। দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

ভবন ধসের পর এর নির্মাণপ্রক্রিয়া, নকশা অনুমোদন, কাঠামোতে পরিবর্তন, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন সংস্থা তদন্ত শুরু করে।

নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুরুতে সোহেল রানাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়নি। পরে তদন্তে ভবন নির্মাণ, অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে অধিকতর তদন্ত করা হয়।

২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানা, তার বাবা-মাসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুনের মৃত্যু হলে তাদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে আটজনের বিরুদ্ধে বিচার শেষ হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রানা প্লাজা নামে ছয়তলা একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভবনটির ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নেওয়ার পর সেখানে একাধিক পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ভবনের নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২০ জন সাক্ষী উপস্থাপনের অনুমতি পেলেও আদালতে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ মামলাটির রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে করা এ মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!