রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘুষের মহোৎসব! এক বছরে লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

ঘুষের মহোৎসব! এক বছরে লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সেবাখাতে দুর্নীতির চিত্র নিয়ে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরে নাগরিকরা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। গবেষণা সংস্থাটির মতে, এই অর্থ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সাধারণ মানুষের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক পরিবারের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ জানিয়েছে, ঘুষ বা অনৈতিক অর্থ প্রদান ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া এখনো অত্যন্ত কঠিন।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভ্রমণ অনুমতিপত্র প্রদান এবং সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোতে দুর্নীতির হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং বিচারসেবা খাতেও অনিয়ম ও ঘুষের প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ পরিবার মনে করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী রূপ পেয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, অভিযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে অনিয়মের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে অনীহা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে শহরের বাসিন্দাদের ঘুষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের সামর্থ্যের তুলনায় বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে।

নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা। অনেক ক্ষেত্রে এখনো মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।

গবেষণা সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত হলেও সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া, জবাবদিহিতার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, সামাজিক বৈষম্যও বাড়িয়ে দেয়। ক্ষমতাবানরা সুবিধা পেলেও সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ বঞ্চনার শিকার হন। তাই সেবাখাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধে একাধিক সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সেবাখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!