রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাড়ে পাঁচ বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দ ৪৭ মণের বেশি সোনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

সাড়ে পাঁচ বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে  জব্দ ৪৭ মণের বেশি সোনা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের সোনা জব্দ হওয়ায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম ওজনের ১৬০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা সংস্থা, শুল্ক কর্তৃপক্ষ, বিমান নিরাপত্তা বিভাগ ও কাস্টমসের সমন্বিত দল। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের মালামাল রাখার নির্দিষ্ট অংশে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে সোনা দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় এক হাজার ৯০২ কেজি, অর্থাৎ ৪৭ মণেরও বেশি সোনা জব্দ করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় তিন হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ জব্দের ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক সোনা পাচারকারীদের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই বিমানবন্দর।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ চালানের উৎস মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে দুবাই। এ ছাড়া সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকেও বিভিন্ন সময়ে সোনা আনার চেষ্টা ধরা পড়েছে। চোরাকারবারিরা কখনো যাত্রীর শরীরে, কখনো বিমানের শৌচাগার, মালামাল বহনের অংশ কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে সোনা লুকিয়ে আনে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সোনা চোরাচালানের অভিযোগে পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ঘটনায় প্রকৃত বাহক বা মূল হোতাদের শনাক্ত করা না যাওয়ায় মামলার আসামি অজ্ঞাতই থেকে গেছে। তদন্তকারীদের মতে, বড় চক্রের সদস্যরা নিজেদের আড়ালে রেখে বাহকদের ব্যবহার করায় মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে শুধু বাজার নয়, পার্শ্ববর্তী দেশে সোনা পাঠানোর মধ্যবর্তী পথ হিসেবেও ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। তুলনামূলক করের পার্থক্য, উচ্চ চাহিদা এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের কারণে এই পথ পাচারকারীদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠেছে। ফলে বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার হলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা এখনো সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, উন্নত তল্লাশি ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা গেলে সোনা চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!